ratargul
প্রকৃতির এক অপরূপ সৌন্দর্য্য রাতালগুল
রাতালগুল (Ratargul Swamp Forest) বাংলাদেশের একমাত্র মিঠাপানির জলাবদ্ধ বন। এটি সিলেট বিভাগের গোয়াইনঘাট উপজেলায় অবস্থিত এবং বর্ষাকালে এক অদ্ভুত সৌন্দর্যে মোড়ানো থাকে। এই বনকে অনেকেই ‘বাংলাদেশের সুন্দরবন’ বলে থাকেন, যদিও এটি সুন্দরবনের মতো ম্যানগ্রোভ বন নয়। সারা বছরই কিছুটা পানি থাকলেও বর্ষাকালে পুরো বন পানিতে ডুবে যায়, যা একে আরও মনোমুগ্ধকর করে তোলে।এটি বাংলাদেশের অন্যতম সুন্দর এবং রহস্যময় বন, যা অনেকে প্রকৃতির এক অপরূপ সৌন্দর্য্য রাতালগুলকে “বাংলার অ্যামাজন” বলে থাকেন। রাতারগুল জলাবন ১৯৭৩ সালে বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

ঢাকা থেকে সিলেট যাওয়ার উপায়:
১। ট্রেনেঃ
ঢাকা থেকে সিলেটগামী বেশ কয়েকটি ট্রেন চলাচল করে—
পারাবত এক্সপ্রেস (৬:২০ AM),জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস (১১:১৫ AM), উপবন এক্সপ্রেস (৮:৩০ PM), কালনী এক্সপ্রেস (৩:০০ PM,সময় লাগে: ৬-৭ ঘণ্টা ,ভাড়া: শোভন চেয়ার → ৩২০ টাকা, এসি সিট → ৭৫৬ টাকা (ভেদভেদ থাকতে পারে) ,টিকিট বুকিংwww.esheba.cnsbd.com
২।বাসেঃ
ঢাকা থেকে সরাসরি সিলেটগামী বাস পাওয়া যায়—
এনা পরিবহন ,শ্যামলী পরিবহন ,সৌদিয়া পরিবহন ,গ্রিন লাইন পরিবহন (এসি) ,সময় লাগে: ৬-৮ ঘণ্টা ,ভাড়া: নন-এসি → ৫০০-৭০০ টাকা, এসি → ১২০০-১৫০০ টাকা ,বাস ছাড়ার স্থান: সায়েদাবাদ, মহাখালী, গাবতলী।
৩। ফ্লাইটেঃ
বিমান বাংলাদেশ, ইউএস-বাংলা, নভোএয়ার ঢাকা থেকে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (সিলেট) পর্যন্ত ফ্লাইট পরিচালনা করে।সময় লাগে: ৪৫-৫০ মিনিট ,ভাড়া: ৪,০০০-৮,০০০ টাকা (এয়ারলাইন্স ও সিজনের উপর নির্ভর করে)।

সিলেট শহর থেকে রাতারগুল যাওয়ার উপায়ঃ
রাতারগুল সিলেট শহর থেকে প্রায় ২৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
১। সিলেট শহর → গোয়াইনঘাট/সারিঘাট (সিএনজি/বাসে ২০০-৩০০ টাকা)
২। সারিঘাট → রাতারগুল (নৌকায় ৮০০-১২০০ টাকা, সিজনের ওপর নির্ভর করে)

রাতারগুলে ভ্রমণের আদর্শ সময়ঃ
রাতারগুল যেকোনো সময়ে সুন্দর, তবে সবচেয়ে ভালো অভিজ্ঞতার জন্য বর্ষাকাল (জুলাই-সেপ্টেম্বর) আদর্শ সময়। এ সময় গোটা বনজুড়ে জল থাকে, যা নৌকা ভ্রমণের অভিজ্ঞতাকে আরও রোমাঞ্চকর করে তোলে। নভেম্বর-ফেব্রুয়ারি (শীতকাল) – পানি কমে গেলে মাটির কিছু অংশ দেখা যায়, তখন একটু আলাদা পরিবেশ থাকে।

রাতারগুল ভ্রমণের আনুমানিক খরচঃ
খরচের ধরন | আনুমানিক খরচ (টাকা) |
---|---|
সিলেট থেকে সারিঘাট (সিএনজি/বাস) | ২০০-৩০০ |
সারিঘাট থেকে রাতারগুল নৌকা | ৮০০-১২০০ |
প্রবেশ ফি | ৫০ |
গাইড ফি (ঐচ্ছিক) | ৩০০-৫০০ |
রাতালগুল ভ্রমণে থাকার ব্যবস্থাঃ
রাতালগুল একটি জলাবদ্ধ বন হওয়ায় সেখানে সরাসরি থাকার ব্যবস্থা নেই। তবে সিলেট শহরে ও রাতালগুলের কাছাকাছি কয়েকটি জায়গায় ভালো মানের হোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে।
সিলেট শহরের কিছু ভালো মানের হোটেলঃ
১।Rose View Hotel, ভাড়া: ৫০০০-১৫,০০০ টাকা, অবস্থান: মিরাবাজার, সিলেট.
২।Hotel Noorjahan Grand: ভাড়া: ৩০০০-৮০০০ টাকা ,অবস্থান: জিন্দাবাজার, সিলেট
৩।Grand Palace Hotel & Resort: ভাড়া: ৫০০০-১০,০০০ টাকা ,অবস্থান: মজুমদারপাড়া, সিলেট
৪।Hotel Holy Gate ভাড়া: ২০০০-৫০০০ টাকা, অবস্থান: দরগাহ গেট, সিলেট
৫।Bottomhill Palace Hotel : ভাড়া: ১৫০০-৪৫০০ টাকা, অবস্থান: জিন্দাবাজার, সিলেট

রাতালগুলের কাছাকাছি থাকার জায়গাঃ
যদি আপনি শহরের বাইরে থাকতে চান, তবে গোয়াইনঘাট বা জৈন্তাপুরের রিসোর্টে থাকতে পারেন।
১।Nazimgarh Wilderness Resort: ভাড়া: ৮০০০-১৫,০০০ টাকা ,অবস্থান: খাসিয়া পাহাড় সংলগ্ন এলাকা, সিলেট
২।Shuktara Nature Retreat:ভাড়া: ৫০০০-১০,০০০ টাকা, অবস্থান: জৈন্তাপুর, সিলেট
৩।DuSai Resort & Spa :(সিলেটের সবচেয়ে বিলাসবহুল রিসোর্ট), ভাড়া: ১০,০০০-২০,০০০ টাকা, অবস্থান: মৌলভীবাজার (সিলেট থেকে ১.৫ ঘণ্টা দূরে)
রাতালগুলের কাছাকাছি খাবারের স্থানঃ
যেহেতু রাতালগুলে খাবারের ভালো অপশন নেই, তাই সাধারণত পর্যটকরা শ্রীপুর বাজার বা গোয়াইনঘাটে খাবার খান।
১। শ্রীপুর বাজারের ছোট খাবারের দোকান, ভাত-মাছ, ডাল, সবজি, মাংস পাওয়া যায়, দাম: জনপ্রতি ১০০-২৫০ টাকা
২। গোয়াইনঘাট বাজারের হোটেল গুলশান (লোকাল খাবার) গ্রামীণ স্বাদের মাছ ভাজা, ডাল, গরুর মাংস ও দেশি খাবার পাওয়া যায় ,দাম: জনপ্রতি ২০০-৩০০ টাকা
৩। টিপস:
✔ রাতালগুলে যাওয়ার আগে শ্রীপুর বাজার থেকে শুকনো খাবার (চিপস, বিস্কুট, পানি) নিয়ে নিন।
✔ নৌকায় ভ্রমণের সময় খাওয়ার জন্য ফল বা স্ন্যাকস সঙ্গে রাখা ভালো।
সিলেট শহরের জনপ্রিয় রেস্টুরেন্টঃ
রাতালগুল থেকে ফিরে এসে সিলেটে থাকলে এখানে কিছু জনপ্রিয় খাবারের স্থান ট্রাই করতে পারেন—
১। পানসী রেস্টুরেন্ট (জিন্দাবাজার) :বিখ্যাত সাতকরা গরুর মাংস, দেশি মাছ ভাজা, খাসির কালাভুনা , দাম: ৩০০-৫০০ টাকা
২। পাঁচভাই রেস্টুরেন্ট (জিন্দাবাজার) :গরুর মাংস ভুনা, হাঁসের মাংস, ডাল-ভাত, দাম: ২০০-৪০০ টাকা
বিশেষ করে মালনীছড়া চা বাগানের চা। দুধ চা, মশলা চা, মাল্টি লেয়ার চা এখানে জনপ্রিয়।
ভ্রমণের সময় করণীয় ও সতর্কতাঃ
১। লাইফ জ্যাকেট পরুন, কারণ জলাবনের পানি গভীর হতে পারে।
২। পরিবেশ রক্ষা করুন, প্লাস্টিক ও ময়লা ফেলবেন না।
৩। স্থানীয় গাইড নিতে পারেন, যারা বনের গোপন সৌন্দর্য দেখাতে পারবে।
৪। বৃষ্টি হলে ছাতা বা রেইনকোট আনতে ভুলবেন না।
Leave a Reply